
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠিতে সালিশির জন্য ডেকে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার ১৯ নভেম্বর বিকেলে সিদ্ধকাঠি হাইস্কুলের সামনে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ব্যক্তি বেলাল শরীফ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ থেকে ১৫ দিন আগে বেলাল শরীফের সাথে নয়ন খানের কথাকাটাকাটি হয়। ঘটনার পর নয়ন ও তার চাচার কাছে বেলাল শরীফ ক্ষমাও চান। এরপরেও বুধবার স্থানীয় মণিমূল সরদার দুই পক্ষকে সালিশের জন্য ডাকেন। সালিশ চলাকালে নয়নের চাচা সবুজ খান হঠাৎ উপস্থিত সকলের সামনে বেলাল শরীফকে জুতো দিয়ে মারধর শুরু করেন।
বেলাল শরীফ বলেন, নয়নের সাথে আমার দুই সপ্তাহ আগে কথা কাটাকাটি হয়েছিল এবং সেই কারণে আমি ক্ষমা চেয়েছিলাম। কিন্তু মণিমূল সরদার আমাকে সমাধানের জন্য ডাকেন। সেখানে গেলে সবুজ খান অতর্কিতভাবে আমাকে মারধর শুরু করে। আমার ভাই ও ভাইয়ের ছেলেরা এগিয়ে আসলে তাদেরও হুমকি ধামকি দেওয়া হয়।
মণিমূল সরদার বলেন, আমরা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে ডাকেছিলাম। কিন্তু সালিশ শেষ হওয়ার আগেই সবুজ খান জুতো দিয়ে বেলাল শরীফকে মারধর করে। এটি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আমাদের জন্য অসম্মানজনক। পরে আমি দুই পক্ষকে বসিয়ে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
স্থানীয় দোকানদার আইয়ুব খতিব বলেন, মণিমূল সরদার আমার দোকানে সালিশ বসান। কথা বলতে বলতে হঠাৎ সবুজ খান জুতো দিয়ে বেলাল শরীফকে পেটাতে থাকে। এ ধরনের কাজ করা ঠিক হয়নি।
এদিকে বেলাল শরীফের ভাতিজা সবুজ শরীফ বলেন, আমার চাচাকে মারধরের পর আমরা সেখানে যাই। সবুজ খান আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
অভিযুক্ত সবুজ খান বলেন, বেলাল শরীফ আমার ভাতিযাকে মেরেছে সেজন্য আমি তাকে মেরেছি। কিন্তু সালিশের ভিতর বসে মারাটা উচিত হয়নি।
নলছিটি থেকে লোক ভাড়া করে এনে মারবে বলছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। অভিযুক্ত সবুজ খান বলেন, সে আমার ভাইয়ের ছেলেকে মেরেছিল তাই আমি মেরেছি। তবে সালিশির মধ্যে বসে তার গায়ে হাত দেওয়া আমার ভুল হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও বিচার দাবি করেছে। থানায় লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।